‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’—এই প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৩টি দেশে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঘ দিবস। এবারের দিবসটিতে বাংলাদেশের জন্য বড় সুখবর হলো, সরকারি জরিপে সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বেড়ে ১২৫-এ দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি পূর্ব সুন্দরবনের আন্দারমানিক ফরেস্ট অফিস এলাকায় বাঘের অবাধ বিচরণ এবং দিনেদুপুরে নদী পারাপারের দৃশ্য বনবিভাগের সংরক্ষণ কার্যক্রমের ইতিবাচক ফল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে সংখ্যা বাড়লেও সুন্দরবনের এই শীর্ষ শিকারি প্রাণীটি এখনও বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাঘের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রামও কঠিন হচ্ছে। সুন্দরবনে হরিণ শিকার বেড়ে যাওয়ায় বাঘের তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
এছাড়া চোরাশিকারিদের পাতা হরিণ ধরার ফাঁদ বাঘের জন্য বড় বিপদের কারণ। সম্প্রতি ফাঁদে আটকে পড়া একটি বাঘকে চিকিৎসার পর বনে ফেরানো হয়েছে। এর বাইরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নিরাপদ আবাস ও প্রজননের অভাব এবং মানুষ-বাঘ সংঘাত সংরক্ষণ কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাঘ সংরক্ষণে কেবল সংখ্যা বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা।
বাঘ জরিপ কারিগরি কমিটির সদস্য মফিজুর রহমান এবং সুন্দরবন একাডেমির ট্রাস্টি রফিকুল ইসলাম খোকনের মতে, বাঘ বাঁচাতে হলে পুরো সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করতে হবে। এজন্য বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল ও পর্যাপ্ত খাদ্য (হরিণ) নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করে সম্পৃক্ত করা জরুরি।
তবে আশার কথা হলো, বাঘের সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে বন বিভাগ।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাঘ সংরক্ষণে সরকার স্মার্ট পেট্রোলিং, ক্যামেরা ট্র্যাপ এবং উদ্ধার-পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করেছে। জনসম্পৃক্ততা ও বন রক্ষায় নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে আগামী জরিপে বাঘের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।









