শীতলক্ষ্যা রক্ষা না হলে হারাবে রূপগঞ্জ

রূপগঞ্জের প্রাণ শীতলক্ষ্যা নদী আজ মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। একসময়ের স্বচ্ছ জলরাশি এখন কালো, দূষিত। যে নদী শত শত বছর ধরে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উৎস ছিল, সেই নদীকে আমরা ধ্বংস করে ফেলছি নিজেদের হাতে।

শীতলক্ষ্যার দূষণ আজ আর গোপন কোনো বিষয় নয়। রূপগঞ্জসহ নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য উপজেলার শত শত কারখানা থেকে প্রতিদিন নির্বিচারে ফেলা হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য। ইটিপি বসানোর আইন থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের তদারকি নেই বললেই চলে। ফলে নদীর পানি মারাত্মক ক্ষতিকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

নদী দূষণের শিকার শুধু পরিবেশ নয়, সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজারো জেলে পরিবার। মাছ নেই, নদীর পানি ব্যবহারযোগ্য নেই—তাদের জীবিকা আজ হুমকির মুখে। যে নদী তাদের বাঁচিয়ে রেখেছিল, সেই নদীই এখন তাদের দুর্দশার কারণ।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বারবার নদী রক্ষার অঙ্গীকার করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর, নদী কমিশন, স্থানীয় প্রশাসন—সবাই জানে সমস্যার গভীরতা। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। কাগজে-কলমে পরিকল্পনা হয়, মাঝেমধ্যে অভিযান হয়, কিন্তু টেকসই সমাধান আসে না।

শীতলক্ষ্যা রক্ষায় চাই দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কঠোর আইনের প্রয়োগ। প্রতিটি কারখানায় কার্যকর ইটিপি বসানো বাধ্যতামূলক করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়ম মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে নাব্য ফিরিয়ে আনতে হবে।

শুধু সরকারের উপর দায় চাপালে চলবে না। সমাজের সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আছে। নদীতে প্লাস্টিক, ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে। স্থানীয় জনগণকে সংগঠিত হয়ে নদী রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

শীতলক্ষ্যা শুধু একটি নদী নয়—এটি রূপগঞ্জের পরিচয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারক। এই নদী হারালে হারাবে একটি জনপদের সভ্যতা। পরের প্রজন্মের কাছে আমরা কী জবাব দেব যদি তাদের ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে না পারি?

এখনও সময় আছে। শীতলক্ষ্যাকে বাঁচাতে হবে—আজই, এখনই। নইলে আগামীর ইতিহাসে আমরা দায়ী থাকব একটি নদীহত্যার।