ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জ। প্রধানমন্ত্রীসহ ৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করলেও তালিকায় স্থান হয়নি এ জেলার কোনো সংসদ সদস্যের।
নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। তবে নারায়ণগঞ্জ থেকে নির্বাচিত পাঁচজন সংসদ সদস্যের কেউই দায়িত্ব পাননি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অতীতের নজির
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ অতীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে প্রয়াত রাজনীতিবিদ আব্দুল মতিন চৌধুরী জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।
এছাড়া অধ্যাপক রেজাউল করিম নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে তিনবার নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
বর্তমান প্রতিনিধিত্ব
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি এবং একটিতে তাদের জোটসঙ্গী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-১, ২, ৩ ও ৫ আসনে বিএনপির প্রার্থীরা এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী নির্বাচিত হন।
নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলার দু-একজন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কেউই দায়িত্ব পাননি।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া
নারায়ণগঞ্জকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক সচেতন মহলের অনেকে মনে করছেন, মন্ত্রিসভায় এ জেলার প্রতিনিধিত্ব থাকলে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন ও জাতীয় পর্যায়ে দাবিদাওয়া উপস্থাপনে সুবিধা হতো।
তবে দলের একাংশের মতে, মন্ত্রী না হলেও সংসদ সদস্যরা সংসদীয় কমিটি ও অন্যান্য সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে জেলার স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারবেন।
এখন দেখার বিষয়, মন্ত্রিসভার বাইরে থেকেও নারায়ণগঞ্জের নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা কতটা কার্যকরভাবে জেলার উন্নয়ন ও প্রত্যাশা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারেন।











