
উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ঢাকার মোহাম্মদপুরের ‘জনতার বাজার-১’-এ তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থ অপচয় ও বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন বাজারটির তরুণ উদ্যোক্তারা।
শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাজারটির অন্যতম উদ্যোক্তা মো. বোরহান উদ্দিন ও সানোয়ারুল হক সনি এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর করে ন্যায্যমূল্যে পণ্য পৌঁছে দিতে তৎকালীন ঢাকা জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ রোডে প্রতিষ্ঠিত ‘জনতার বাজার-১’-এর দায়িত্ব পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা কয়েকজন উদ্যোক্তা। ২০২৫ সাল থেকে বাজারটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। পরবর্তীতে নীতিমালা সংশোধন করে জেলা প্রশাসনের নিয়োগকৃত কর্মচারীদের বেতনের দায় উদ্যোক্তাদের ওপর চাপানো হয় এবং গত ১২ জুলাই তাঁদের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের চিঠি দেওয়া হয়।
উদ্যোক্তাদের দাবি, এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হলে গত ১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জনতার বাজার-১-এর দখল ও অবস্থানের ওপর ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এই আদেশের সার্টিফায়েড কপি জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছানোর পরও গত ৩ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁদের অনুপস্থিতিতে বাজারের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উন্নয়ন বরাদ্দের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে উদ্যোক্তারা জানান, জনতার বাজারে স্লটার হাউস নির্মাণের জন্য টিআর প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ ও উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে তা নির্মিত হয়নি। এছাড়া কামরাঙ্গীরচরের ‘জনতার বাজার-২’-এ অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করা হলেও গত সাত মাসে কোনো উদ্যোক্তা দেওয়া যায়নি। ফলে প্রায় ১০ জন কর্মচারীকে কোনো কাজ ছাড়া বসিয়ে রেখে প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতন হিসেবে অপচয় করা হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ কার্যকর করা, তালা দেওয়ার ঘটনার তদন্ত, উন্নয়ন বরাদ্দের আর্থিক অডিট এবং উদ্যোক্তাদের ক্ষতির দায় নিরূপণসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
এ বিষয়ে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঢাকা জেলা প্রশাসন হাইকোর্টের আদেশের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। উদ্যোক্তারা মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছেন।’









